কুমার কাকন উজ্জ্বল, ঝালকাঠীর ছেলে, বাবামা’র বড় সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় স্রেফ কৌতুহলের বসেই শুরু করেছিলেন শিস দিয়ে বাংলা গান বাজানোর প্রচেষ্টা। আর সেই প্রচেষ্টাই তাকে এনে দিল বিশ্বরেকর্ড এর গৌরব। ৫৭ সেকেন্ডে সবচেয়ে বেশিবার শিস বাজিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বুকস অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুললেন বাংলাদেশের উদীয়মান এই তরুণ।
মাত্র ২৪ হছর বয়সেই পুরো বিশ্বের মধ্যে হুইসেল ক্যাটাগরিতে প্রথম বারের মতো “লংগেস্ট টাইম টু হুইসেল” টাইটেলে এই রেকর্ডটি নিজের নামের পাসে লেখার যোগ্যতা অর্জন করেছেন কাকন।
পড়াশুনার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন করেন কাকন। পরবর্তীতে একই বছরের ১৪ ডিসেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল বুকস অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের নিকট “লংগেস্ট টাইম টু হুইসেল” ক্যাটাগরিতে ভিডিও পাঠালে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারিতে তা গৃহীত হয়। পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বীকৃতি পান বাংলাদেশি এই তরুণ।
ঝালকাঠি পৌরসভার কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় এবং ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আইনজীবী শিউলি রানী রায় দম্পত্তির এক পুত্র ও এক কণ্যা সন্তানের মধ্যে কাকন বড়। ঝালকাঠি পৌর এলাকার সিটিপার্কে কাকনের জন্ম।
উল্লেখ্য, কাকন ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজে। সেখান থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ২০২২ সালে ভারত সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে স্টাডি ইন ইন্ডিয়া (এসআইআই) এর অধীনে বেঙ্গালুরুর জেইন ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি জেনেটিক্স এন্ড বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
চলতি বছরের শেষের দিকে ইন্টার্নশীপ শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে এসে শিস গান ও সঙ্গীত নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এই তরুণ। পাশাপাশি একটি সঙ্গীত একাডেমী করার ইচ্ছাও আছে তাঁর। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করা কাকন বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেরও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।