প্রচ্ছদবিশেষ সংবাদসাতকানিয়ায় ভিসার টাকা ফেরত চাওয়ায় রাতের আঁধারে হামলা, দেবরের...

সাতকানিয়ায় ভিসার টাকা ফেরত চাওয়ায় রাতের আঁধারে হামলা, দেবরের হাতে লাঞ্ছিত ভাবি

মো. জামাল উদ্দিন

ভিসার জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও আপন চাচীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকার দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত ১১ টার দিকে সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালা চাঁন পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালা চাঁন পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে ব্যাংকার শামসুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই মো. ইফতেখারসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন।

এ বিষয়ে  ভুক্তভোগী আছমা বেগম বলেন, সাত বছর আগে আমার ছেলেকে ভিসা দিবে বলে স্বামী জাগির হোসেনের কাছ থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন শামসুল ইসলাম। পরে ভিসা ও টাকা কিছুই না দিয়ে তিনি  বিদেশে চলে যান। তবে সমপরিমাণ টাকার একটি চেক দেন। সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোন টাকা ছিল না। এরপর টাকা আদায়ে আদালতে মামলা করি। আদালত শামসুল ইসলামকে দোষী করে ৫ লাভ টাকা পরিশোধের রায় দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শামসুল ইসলাম গং আমার স্বামীকে সাতকানিয়া কর্মকার ভাঙ্গা এলাকা হতে জোরপূর্বক রিকশায় তুলে নিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আপোষ নামায় স্বাক্ষর নিয়ে আহত অবস্থায় ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী একই এলাকার দোকানদার জামাল সওদাগর বলেন, শামসু প্রথমে তাদের সঙ্গে যেতে ডাকেন জাগের হোসেনকে। কিন্তু তিনি যেতে না চাওয়ায় জোরপূর্বক রিকশায় তুলে নিয়ে যায়। দুপুরবেলা হওয়াতে রাস্তায় তেমন মানুষ ছিল না। তবে সেসময় কোথায় নিচে গেছে সেটি জানি না।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  গত ১০ নভেম্বর রাতে হঠাৎ ব্যাংকার শামসুল ইসলাম দলবল নিয়ে জাগের হোসেনের বাড়ির টিনের গেট ভেঙে হামলা শুরু করে। এসময়  আছমা বেগমসহ দুই পুত্রবধূকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

সরজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যাংকার শামসুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেদক কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরাফাতের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল ধরেননি।

পরে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর বলেন, উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্যতা যাচাই করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেসি

এই বিভাগের আরও পড়ুন