রোববার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টা। নগরের ইপিজেড মোড় নিউমুরিং সড়কের মুখে দায়িত্ব পালনরত সিএমপির ট্রফিক (বন্দর) বিভাগের এটিএসআই রুবেল। কিছুক্ষণ পরপর ইপিজেড হয়ে পতেঙ্গাগামী খালি বাসে উঠছেন এবং চালক-হেলপারের সঙ্গে কথা বলে হাতের মুঠ বদ্ধ করে নিচে নেমে আসছেন।
পরে ভুক্তভোগী এক বাস চালকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার ভয় দেখিয়ে ২০০ টাকা নিয়েছেন এটিএসআই রুবেল। এভাবে প্রতিদিন টাকা আদায় করেন তিনি।
এর আগে একইদিন বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ইউটার্নের অভিযোগে একটি লেগুনা গাড়ি আটক করেন রুবেল। এরপর গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার শর্তে চালকের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন তিনি। এসময় চালক এত টাকা নেই জানালে দায়িত্বরত আরেক সার্জেন্ট খন্দকার আমিনুরকে ডেকে নিয়ে আসেন রুবেল। তিনি এসে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেন।
এরপর ওই গাড়ির মালিক ঘটনাস্থলে এসে সকল গাড়ি ইউটার্ন করে তাদের আটক না করার কারণ জানতে চাইলে সার্জেন্ট খন্দকার আমিনুর ও এটিএসআই রুবেল দুজন কিছু না বলে চলে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহন শ্রমিক বলেন, ইপিজেড এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. মাবিয়ান মিঞা একজন ভালো মানুষ। তিনি আসার পর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের অযথা হয়রানির নজির খুব কম আছে। কিন্তু এটিএসআই রুবেলের মতো কিছু পুলিশের জন্য পুরো ট্রাফিক বিভাগের বদনাম হচ্ছে।
সোমবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হায়দার নামের এক লেগুনা চালক জানান, কোন গাড়িকে সংকেত দিলেই যেকোন অজুহাতে টাকা নিবেন এটিএসআই রুবেল। তাকে টাকা না দিয়ে কোন গাড়ি চালকের নিস্তার নেই। গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বলবে এখানে দাঁড়ালে কেন? বিভিন্ন অজুহাতে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন তিনি। তার আদায় করা টাকার পরিমান ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। ভাব দেখে মনে হয়- সড়কে দায়িত্ব পালন নয় যেন তাকে চাঁদাবাজির জন্য রেখেছে ট্রাফিক বিভাগ।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএসআই রুবেল পরে ফোন দিবেন বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে ট্রাফিক (বন্দর) বিভাগের ইন্সপেক্টর (এডমিন) মো. আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
জেসি