প্রচ্ছদখেলাধুলাভারতীয় ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কপিল দেব

ভারতীয় ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কপিল দেব

ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব। আঙুল তুললেন আইপিএলের দিকে।

সরাসরি বলেন, ছোটখাট চোট নিয়ে আইপিএল খেলতে দ্বিধা করবে না ক্রিকেটাররা, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় বেঁকে বসে। তখন খেলতে চাইবে না।

জাতীয় দলের হয়ে খেলার থেকেও আইপিএলে খেলাকে আজকাল বেশি গুরুত্ব দেয় ক্রিকেটাররা। আর এটাই খুবই অপছন্দ করেন এই কিংবদন্তি। বোর্ডকেও খোঁচা মারতে ছাড়েননি তিনি।

এই প্রসঙ্গে কপিল বলেন, ‘আজকাল ১০ মাস ক্রিকেট হয়। সবাইকে নিজেদের দেখভাল করতে হবে। আইপিএল ভাল, তবে এই টুর্নামেন্ট ক্রিকেট জীবন নষ্টও করে দিতে পারে। কারণ হালকা চোট নিয়েও প্লেয়াররা আইপিএল খেলে। কিন্তু অল্প চোট নিয়ে দেশের হয়ে খেলে না ক্রিকেটাররা। বিশ্রাম চায়। আমি কোনও রাখঢাক না করেই এটা বলছি। হালকা চোট নিয়েও আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রিকেটাররা খেলে। ক্রিকেট বোর্ডের বোঝা উচিত একজন প্লেয়ারের কতটা খেলা উচিত।

সম্প্রতি দ্য উইক ম্যাগাজিনে এক সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন কপিল দেব। সেখানে দেশটির ক্রিকেটারদের নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। যেখানে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সাক্ষাৎকারে প্রায় এক বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা বুমরার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। সামনেই বিশ্বকাপ। মেগা ইভেন্টের আগে ভারতীয় পেসার ফিট না হলে কোনও লাভই নেই। কপিল বলেন, ‘বুমরার কী হয়েছে? যদি ও বিশ্বকাপে খেলতেই না পারে, তাহলে আমরা অযথা ওর পেছনে সময় নষ্ট করছি। ঋষভ পন্থ দারুণ ক্রিকেটার। ও থাকলে টেস্টের রেজাল্ট আরও ভাল হতো।’

কপিল দেব বলেন, ‘বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস রয়েছে। তবে সেইসঙ্গে তাদের মধ্যে অহংকারও রয়েছে। তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। তাতে তাদের মধ্যে এক ধরণের অহংকার তৈরি হয়েছে। এটিই তাদের ধ্বংস করছে। তারা এখন নিজেরাই সব, সেটি বিশ্বাস করে।’

ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘খুব বেশি অর্থ আসলে, অহংকারও আসে। এসব ক্রিকেটাররা মনে করে তারা সবকিছু জানে। এটাই পার্থক্য। আমার মতে অনেক ক্রিকেটার আছে যাদের সাহায্য প্রয়োজন। সুনীল গাভাস্কার রয়েছেন, ‘তার পরামর্শ কেন চায় না? এত কিসের ইগো?’ আসলে ওরা মনে করে, ‘ওরা যথেষ্ট ভালো।’ সেটা হতেই পারে। তবে ক্রিকেটে ৫০টি মৌসুম কাটানো কারও সাহায্য নিলে, তার পরামর্শ শুনলে তোমাদের ভাবনা চিন্তা বদলে যেতে পারে।’

সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার অন্যতম সম্মানজনক এক নাম। তিনি সম্প্রতি আক্ষেপ নিয়েই বলেছেন, বর্তমান সময়ের ক্রিকেটাররা খুব কমই তার কাছে পরামর্শের জন্য আসে। ‘রাহুল দ্রাবিড়, শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ নিয়মিত আমার কাছে আসতেন। তারা নির্দিষ্ট কোনো একটি সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসতেন। এসব বিষয়ে আমার কোনো অহংকার নেই।’

এই বিভাগের আরও পড়ুন