শুক্রবারের পর বৃষ্টির দেখা নেই চট্টগ্রাম নগরে। মাথার ওপর তপ্ত রোদ। এছাড়া আকাশেও মেঘের কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু এরপরও রাস্তায় থৈ থৈ করছে পানি। জমে থাকা ময়লা পানি মাড়িয়েই চলাচল করছে এলাকার নানা বয়সী মানুষ।
রোববার (১৯ নভেম্বর) সরেজমিন বেলা সাড়ে ১২টায় নগরের ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের ওমর আলী মাতব্বর লেইনে দেখা গেল এই দৃশ্য।
স্থানীয়রা জানায়, একদিন কিংবা দুদিন নয়, তিনদিন ধরে রাস্তায় জমে আছে ময়লা পানি। ফলে চলাচলে বেড়েছে দুর্ভোগ। সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কারো।
সরেজমিন দেখা যায়, ময়লা পানি থেকে বাঁচতে কেউ রিকশায়, কেউ রাস্তার একপাশ ধরে কোনোরকম চলাচল করছে। কেউ আবার সরাসরি পানিতেই হেঁটে চলে যাচ্ছেন গন্তব্যে। তবে চলাচলে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। তবে ওইসময় অনেকে দুর্ভোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বক্তব্য কিংবা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ওমর আলী মাতব্বর লেইনের রাস্তা ও অলিগলিতে পানি উঠে যায়। অলিগলির পানি একদিন পর নেমে গেলেও রাস্তার কয়েকটি অংশের পানি এখনও জমে আছে।
ভুক্তভোগী আশপাশের দোকানিরা জানান, ওমর আলী মাতব্বর লেইনে বৃষ্টি হলেই হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। বির্জা খালের বাঁধ সেই দুর্ভাগ আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানেও খালের একটি অংশে বাঁধ থাকায় রাস্তা ও ড্রেনের পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা-অলিগলিতে জমে যাচ্ছে পানি। এছাড়া পানি নামতে পেরিয়ে যায় সপ্তাহ। পানি থেকে বাঁচতে এখানকার অনেক অলিগলি উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও সুফল মিলছে না। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানালেও তিনি সিডিও ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক বলেন, এলাকার রাস্তা-অলিগলি উঁচু করেও সুফল মিলছে না। বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে থাকে। ফলে বেচাবিক্রিও বন্ধ।
এলাকার বাসিন্দা মো. বাদশা বলেন, এখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়। এসময় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। বির্জা খালে বাঁধ থাকায় ড্রেনের পানি খালে প্রবেশ করতে না পারায় এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। বাঁধ অপসারণ করলে পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং আমাদের দুর্ভোগও কমবে।
স্কুল শিক্ষার্থী ফাবিহা জামান বলেন, গত তিনদিন ধরে রাস্তায় পানি জমে আছে। এই ময়লা পানিতে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। রিকশায় আসা-যাওয়া করতে ভাড়াও বেশি লাগছে। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। পানি যন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
জেসি