প্রচ্ছদচট্টগ্রামচকবাজারে ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্য—নীরব পুলিশ

চকবাজারে ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্য—নীরব পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরের চকবাজার এলাকায় বেড়েছে অবৈধ ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্য। এসব রিকশার চালক বেশিরভাগ কিশোর, প্রতিবন্ধী ও মাদকসেবী। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। পঙ্গু হচ্ছেন অনেক পথচারী। এসব জেনেও নীরব ভূমিকায় প্রশাসন।

অভিযোগ আছে, ট্রাফিক ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ এসব অবৈধ রিকশা দাপটের সঙ্গে চলছে। এছাড়া বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরা।

জানা যায়, নগরের চকবাজার ধুনীরপুল থেকে রাহাত্তারপুল এলাকা পর্যন্ত প্রতিদিন শতাধিক ব্যাটারি রিকশা চলাচল করে। সেখানে মাঝেমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু থানা-পুলিশের কোনো অভিযান নেই বললেই চলে। ফলে দিন-দিন বাড়ছে এসব অবৈধ রিকশার চলাচল।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাহাত্তারপুল থেকে ছেড়ে আসা ব্যাটারি রিকশা ধুনীরপুলে এসে দাঁড়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। উঠানামা ভাড়া ১০ টাকা। যাত্রী উঠানামার সময় দুদিকেই লেগে যায় যানজট। থানার টহল গাড়ি আসলেই শুরু হয় চোর-পুলিশ খেলা। নিয়মিত নুর বিতানের সামনে দুজন লোক একজন বৃদ্ধ আবু ও একজন যুবক দায়িত্ব পালন করেন। থানা-পুলিশের সঙ্গে তাদের বেশ ভালো সখ্যতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধুনীরপুল ও রাহাত্তারপুলে অবৈধ ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে মরিয়া একাধিক গ্রুপ। গ্রুপের সদস্যরা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত সকাল-রাতে। এ নিয়ে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনাও। ইতিমধ্যে কয়েকদফা মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানায়, নতুন ওসি যোগদানের পর থেকে আরও দ্বিগুণ বেড়েছে অবৈধ রিকশার চলাচল। অভিযান নেই বললেই চলে। শুধু সকালে ১৫-২০ মিনিটের জন্য থানা পুলিশের একটি টহল গাড়ি এসে ধুনীরপুলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এসময় ব্যাটারি রিকশা পশ্চিম বাকলিয়া স্কুলের সামনে থেকে যাত্রী উঠানামা করায়। পুলিশ চলে গেলে সব রিকশা পুলের ওপর এসে যানজট তৈরি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রিকশা চালক জানায়, ধুনীরপুল ও রাহাত্তাপুলে ৫০ টাকা করে ১০০ টাকা দিতে হয়। রাহাত্তারপুল এলাকার বাইট্টা রুবেলের ভাসমান চায়ের দোকানে জমা দিতে হয় ৫০ টাকা। রুবেলের হয়ে টাকা নেন ইমন ও সোহেল। ধুনীরপুলের টাকা নেন আবু ও এক যুবক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ ব্যাটারি চলাচলে ট্রাফিক, টিআই ও থানা-পুলিশকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিতে হয়। গ্যারেজ মালিক ও গাড়ির মালিক চালকদের কাছ থেকে এই ম্যানেজের টাকা আদায় করেন নিয়মিত। যারা টাকা দেন না বা দিতে চান না তাদের গাড়ি অভিযানে ধরে জরিমানা করা হয়।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চকবাজার এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) বিপ্লব কুমার পালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

পরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই প্রশাসন) দক্ষিণ মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

এছাড়া চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়ালিউদ্দীন আকবরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

জেসি

এই বিভাগের আরও পড়ুন