প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরানে উষ্ণ অভ্যর্থনা

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরানে উষ্ণ অভ্যর্থনা

গত মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর সৌদিআরব এবং ইরান তাদের সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগ স্থাপন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ তেহরানে পৌঁছেছেন । সাত বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো সৌদি কর্মকর্তার তেহরানে সফর।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

সৌদি মন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন। রাইসি মাত্র ক’দিন আগে লাতিন আমেরিকা সফর শেষ করেছেন।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত অর্থনৈতিক ব্লক ব্রিকস-এর বৈঠকের ফাঁকে জুনের প্রথম দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমিরাবদুল্লাহিয়ান এবং বিন ফারহান শেষবার দেখা করেছিলেন।

কিন্তু ২০১৬ সালের পর এটিই প্রথম কোনো সৌদি কর্মকর্তার ইরান সফর। উল্লেখ্য, রিয়াদ সৌদি আরবে একজন শিয়া ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর তেহরানে তার কূটনৈতিক মিশন এবং মাশহাদে হামলার পর কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

চীনের মধ্যস্থতায় তেহরান এবং রিয়াদ ১০ মার্চ বেইজিং-এ স্বাক্ষরিত চুক্তির অংশ হিসাবে দুই মাসের মধ্যে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হলেও দূতাবাস ভবনগুলি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

ইরান ৬ জুন রিয়াদে তার দূতাবাস পুনরায় চালু করে। এরপর জেদ্দায় তার কনস্যুলেট জেনারেল এবং একদিন পরে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনে (ওআইসি) তার মিশন চালু করে।

তেহরান কুয়েতের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং আঞ্চলিক বিষয়ক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি আলিরেজা এনায়াতিকে সৌদিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে। তবে এনায়াতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন এবং ইরান নিশ্চিত করেনি যে তিনি রিয়াদে দূতাবাসে কাজ শুরু করেছেন।

ইরানি দূতাবাসের উদ্বোধন করেন কনস্যুলার বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলিরেজা বিগডেলি। তিনি বলেন, “আমরা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রত্যক্ষ করছি।”

এদিকে কবে নাগাদ সৌদি দূতাবাস আবার চালু হবে তা স্পষ্ট নয়। আমিরাবদুল্লাহিয়ান এর আগে বলেছিলেন যে সৌদি আরব তেহরানে একজন রাষ্ট্রদূত নির্বাচন করেছে। তবে সৌদি সরকার এখনও তার পরিচয় প্রকাশ্ করেনি।

অসমর্থিত সূত্রের প্রতিবেদনে জানা যায় যে একটি সৌদি দল ইরানের রাজধানীতে একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করছে। কারণ উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস ভবনগুলি পুনরায় চালু করতে চায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য রিয়াদ সফরের এক সপ্তাহ পরই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করছেন।

এদিকে, বিভিন্ন মিডিয়া তাদের প্রতিবেদনে বলছে যে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা করছে যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বন্দীদের বিনিময় এবং আটকে থাকা ইরানী তহবিল ছাড়ের সম্ভাবনা তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

একই সময়ে, ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তি ইয়েমেন সহ সমগ্র অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা হ্রাস করতে শুরু করেছে। উভয় দেশই বিধ্বংসী এ যুদ্ধে বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছিল। তেহরান সমর্থিত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকেও গত মাসে আরব লীগে স্বাগত জানানো হয়।

এই বিভাগের আরও পড়ুন