প্রচ্ছদচট্টগ্রাম'সোর্স' রুবেলের মাদক বিক্রির সেই দোকান ফের চালু, আতঙ্কে...

‘সোর্স’ রুবেলের মাদক বিক্রির সেই দোকান ফের চালু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ প্রকাশের পর গা ঢাকা দেওয়া সেই চকবাজার এলাকার আতঙ্ক ‘সোর্স’ রুবেল ফিরে এসেছেন। প্রতিদিন দলবল নিয়ে ঘুরছেন প্রকাশ্যেই। ‘সোর্স’ রুবেল ফিরে আসায় এলাকায় বেড়েছে আতঙ্ক।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ‘সোর্স’ রুবেলের সেই চায়ের দোকানের আড়ালে বিক্রি করা মাদকের ভাসমান দোকানটি রাস্তা দখল করে ফের একই জায়গায় চালু করা হয়েছে। ‘সোর্স’ রুবেল নিজেই সেই দোকান পরিচালনা করছেন গভীর রাত পর্যন্ত। সেখানে দিন-রাত আড্ডা লেগেই থাকে। বসে খাওয়ার জন্য রাস্তার উপর বসানো হয়েছে টুলও।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।দোকানের চারপাশে তরুণ-যুবকদের আড্ডা ছিল চোখে পড়ার মতো।

জানা গেছে, সোর্স’ রুবেল চায়ের দোকানের আড়ালে প্রতিদিন গাঁজা বিক্রি করেন। সারাদিন দোকান বন্ধ থাকে শুধু সন্ধ্যায় খুলেন। দোকানে তেমন মালামালও নেই। রাত হলেই দোকানের আশপাশে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন চলে। গাঁজার দুর্গন্ধে অতীষ্ঠ আশপাশের দোকানি ও পথচারীরা। তবে এসবের কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকে পুলিশ ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখান রুবেল।

এদিকে, ব্যস্ত রাস্তার ওপর দোকান বসানোর কারণে যে কোন সময় ঘটতে পারে প্রাণহানির মত ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসী জানায়, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রায় এক মাস রুবেল এলাকায় ছিল না। দোকানও বন্ধ ছিল। এলাকার মানুষ স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু রুবেল আবার ফিরে এসে রাস্তা দখল করে মাদক বিক্রির দোকানটি চালু করেছে। এতে হরে মাদকসেবী ও বখাটের আড্ডা বেড়েছে দোকানে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে জমজমাট থাকে।

আশপাশের দোকানিরা জানায়, ‘সোর্স’ রুবেল ফিরে আসায় এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। আবার কখন কাকে কোনদিকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয় কে জানে। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে সে বীরদর্পে চায়ের দোকানের আড়ালে মাদক বিক্রির দোকানটি চালু করেছে। গভীর রাত পর্যন্ত ওই দোকান খোলা রাখা হয়। দোকানে তেমন মালামালও নেই। মূলত সেখানে মাদক বিক্রি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তা দখল করে ‘সোর্স’ রুবেলের দোকানটি উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। না হয় তরুণ ও যুব সমাজের ক্ষতি হবে। আশা করি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

এক দোকানি বলেন, ‘সোর্স’ রুবেলের দোকানে পুলিশের আনাগোনা বেশি। টহল গাড়ি নিয়মিত এসে দাঁড়ায় এবং চা পান করে।

অভিযোগ আছে, বিভিন্ন অভিযানে চকবাজার পুলিশের সঙ্গেও নিয়মিত থাকেন ‘সোর্স’ রুবেল।  আবার রাত হলে টহল পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। সুযোগ পেলে নিরীহ লোকজনকে তল্লাশির নামে ফাঁসান মাদক দিয়ে। পকেটে সবসময় ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ঘুরেন রুবেল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোর্স রুবেলের সঙ্গে বেশ সখ্যতা চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. সারোয়ার আযমের। তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলেন ‘সোর্স’ রুবেল। সেকারণে অপরাধ করেও পার পেয়ে যান বারবার।

উল্লেখ্য, জাগো চট্টগ্রামে গত শনিবার (১৫ জুন) দখলমুক্ত হয়নি ‘সোর্স’ রুবেলের দখলে থাকা রাস্তা-ফুটপাত ও শুক্রবার (১৪ জুন) চকবাজারে পুলিশের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া ‘সোর্স রুবেল শিরোনামে সচিত্র দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জেসি

এই বিভাগের আরও পড়ুন