নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার এলাকায় রাস্তা-ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা অর্ধ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তবে অভিযান শেষ হতে না হতেই ফের দখল হয়ে গেছে রাস্তা-ফুটপাত।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান চালান চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন।
জানা গেছে, অভিযান শেষ হতেই অবৈধ দখলমুক্ত করা রাস্তা-ফুটপাত ফের দখল করে বসানো হয়েছে দোকাপাট। আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় সরেজমিন গিয়ে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। এসময় দেখা যায়, চকবাজার কাঁচাবাজারের কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে থেকে উচ্ছেদ করা ফুলতলা পর্যন্ত রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসেছে শতাধিক দোকান। প্রতিটি দোকানে জ্বলছে বাতিও! পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে ঝুঁকি নিয়ে হাটছে রাস্তায়।
স্থানীয়রা জানান, অভিযান হয় কিন্তু সুফল নেই। অভিযান শেষ হতেই ফের দখল হয়ে যায়। এসব ঘিরে রয়েছে অবৈধ বাণিজ্য। অথচ চকবাজার কাঁচাবাজারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা খালি পড়ে আছে উদ্বোধনের পর থেকে। সেখানে দিন-রাত এখন বখাটের আড্ডা।
কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনেই দখলের মহোৎসব।
পথচারী মো. রায়হান বলেন, অবৈধ দখল বাণিজ্যের কারণে ফুটপাতে হাঁটা যায় না। রাস্তায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। চসিকের কাঁচাবাজার চালু করা হলে ভোগান্তি কমত। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই।
গৃহীনি জান্নাতুল ইসলাম বলেন, তিনতলার একটি কাঁচাবাজার থাকতে রাস্তা-ফুটপাতে কেন বাজার বসেছে বোধগম্য নয়। রাস্তা-ফুটপাত পরিষ্কার থাকলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ঝুঁকিমুক্ত হাঁটতে পারত।
জানা যায়, অভিযানে রাস্তা দখল করে দোকানের মালামাল রাখায় মালিককে সতর্কের পাশাপাশি দোকানের সামনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযানের খবর আগেই ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অবৈধ দখলকারীরা যে যার মতো মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করে। তবে যারা সরাতে পারেনি তারা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তোড়জোড় শুরু করে। এসময় কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে রাস্তা দখল করে বসানো সবজি বাজার উধাও হয়ে যায়। কয়েজনক দোকান মালিক দোকান বন্ধ করে সরে পড়েন। মুহূর্তেই পাল্টে যায় চকবাজারের প্রতিদিনের দৃশ্য।
অভিযানে আধুনিক চকসুপার মার্কেটের সামনে থেকে ফুলতলা এলাকা পর্যন্ত প্রায় অর্ধ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন বলেন, রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করতেই আজকের এই অভিযান। অভিযানে প্রায় অর্ধ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাস্তা-ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। যতবার দখল করবে ততবার তাদের উচ্ছেদ করা হবে।
জাগো চট্টগ্রাম